দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সংবিধানে মৌলিক কোনো সংশোধন আনা হলে তা গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। রোববার জাতীয় সংসদে গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মতামত জানতে এটি ছিল বিশেষ কমিটির তৃতীয় দফার বৈঠক। প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
বৈঠকে উপস্থিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা সংবিধান সংশোধন নিয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থান ও পরিকল্পনা জানতে চান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক পরিবর্তনের জন্য গণভোটের প্রয়োজন হয়। সংবিধানে এ ধরনের কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনা হলে গণভোট হবে বলে বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, সরকারি নিয়োগে শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুস্তাফিজ শফি।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও তখন আলোচনা হয়েছিল। বামপন্থী চারটি দল সনদে স্বাক্ষর করেনি। সব মিলিয়ে ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোট সনদে স্বাক্ষর করে।
জুলাই জাতীয় সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছিল। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ওই আদেশ অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর ওই সংস্কার পরিষদ গঠন করেনি এবং দলের সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যও রয়েছে।
গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। মূল প্রস্তাবে বিরোধী দল থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি রাখার কথা থাকলেও তারা কোনো নাম দেয়নি। পরে ১২ সদস্যের কমিটিই গঠন করা হয়।
কমিটি বর্তমানে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করছে। ২০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষ করে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে এগোতে চায় কমিটি।
এমএস/